এক ঝলকে

10/recent/ticker-posts

Advertisement

8844

বিশ্ব ইজতেমার প্রস্তুতি পুইনানে, প্রশাসনিক বৈঠক।

 শেখ সিরাজ : আগামী ২০২৬ সালের দুই, তিন, চার ও পাঁচই জানুয়ারি হুগলি জেলার পোলবা ব্লকের দাদপুর  পুইনানে যথাযথ মর্যাদায় অনুষ্ঠিত হতে চলেছে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় সমাবেশ তবলীগে জামাতের বিশ্ব ইজতেমা। প্রথম তিনদিন মূল অনুষ্ঠান চলবে। পাঁচই জানুয়ারি ফজরের নামাজের পর দোয়া ও আখেরি মোনাজাত করে সমাপ্ত হবে হুগলির দাদপুর পুইনানের বিশ্ব ইজতেমা। এ রাজ্যের বিভিন্ন জেলার পাশাপাশি দেশ বিদেশ থেকে লক্ষ লক্ষ ধর্মপ্রাণ  মানুষের সমাগম হবে।

 লক্ষ লক্ষ ধর্মপ্রাণ মানুষদের একসঙ্গে বাস, ও বিভিন্ন গাড়িতে ফেরার সময় যাতে কোন ও অসুবিধা না হয় তার নিরাপত্তার জন্য তবলীগে জামাতের কর্মকর্তা এবং জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও আলেমদের নিয়ে ইজতেমা কমিটির সঙ্গে প্রশাসনিক বৈঠকে রাজ্যের পুর ও নগর উন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের পৌরোহিত্যে দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু, বিদ্যুৎ মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, রাজ্যের সংখ্যালঘু কমিশনের চেয়ারম্যান ও পুবের কলমের সম্পাদক আহমেদ হাসান ইমরান, ধনিয়াখালীর বিধায়ক অসীমা পাত্র, বিধায়ক মোশারফ হোসেন, তৃণমূলের অন্যতম সম্পাদক, ফুরফুরা শরীফের পীরজাদা কাসেম সিদ্দিকী, হুগলির জেলাশাসক খুরশিদ আলী কাদরি, হুগলি গ্রামীন পুলিশ সুপার কামনাশিস সেন, কলকাতা নাখোদা মসজিদের ইমাম মাওলানা শফিক কাসেমী, সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তরের সচিব পিবিসালিম , বীরভূম জেলার সভাধিপতি কাজল শেখ, অল ইন্ডিয়া ইমাম অ্যাসোসিয়েশনের কর্ণধার বাকি বিল্লাহ মোল্লা , দাদপুর থানার ওসি সহ আরো উচ্চপদস্থ অফিসারদের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় দাদপুর এলাকায়। কলকাতার মেয়র ও নগর উন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশেই আমরা আজ বিশ্ব ইজতেমার প্রস্তুতি সরোজ মিনে পরিদর্শন করতে প্রশাসনিক বৈঠকে মিলিত হয়েছি। আমাদের পশ্চিমবঙ্গ সর্বধর্ম সমন্বয়ের পবিত্র পিঠস্থান। তাই সর্বতোভাবে সম্প্রীতি বজায় রেখে আমাদের চলতে হবে।

 ইজতেমায় অন্যতম দায়িত্বশীল জনাব আলহাজ্ব কামরুল হুদা বললেন, আমরা এই প্রথম দু-তিনটি বিষয়ে সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা নিয়ে পার্কিং, স্বাস্থ্য, অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থা ইত্যাদি নিয়ে কাজ করছি। এছাড়া অগ্নি নির্বাপন দপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব খলিল আহমেদ সহ বিভিন্ন আধিকারিকরা সুরক্ষার বিভিন্ন দিকগুলি দেখছেন। সার্বিক পরিকাঠামো, বন্ধ ব্যবস্থার খতিয়ে দেখতেই বিদ্যুৎ, পি এইচ ই, স্বাস্থ্য সহ অন্যান্য দপ্তরে আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়মিত সংযোগ রাখছেন। তাবলীগ জামাতে দায়িত্বশীল কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী জানান , কলকাতা দুর্গাপুর রাজ্য সড়কের পাশে দাদপুর পুইনানের বিশাল ময়দানে বিশ্ব ইজতেমায় রাজ্যের বিভিন্ন জেলা সহ দেশ-বিদেশের লক্ষ লক্ষ ধর্মপ্রাণ মুসলিম জামাতে অংশগ্রহণ করবেন। এই ইজতেমা উপলক্ষে পুইনান বাসস্ট্যান্ডে সংলগ্ন বিশাল জমির উপর শতাধিক ছাউনি তৈরি হচ্ছে। বিশ্ব ইজতেমায় অস্থায়ী গোসলখানা, শৌচালয় সহ ১০ শয্যার অস্থায়ী চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে এই ইজতেমায়। তার পাশাপাশি মঞ্চ নির্মাণের চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে। উচ্চ পর্যায়ের এদিনের এই বৈঠকের শেষে রাজ্য সংখ্যা লঘু কমিশনের চেয়ারম্যান ও পুবের কলম পত্রিকার সম্পাদক আহমেদ হাসান ইমরান বলেন, বিশ্ব ইজতেমার চারদিন ইশতেমা গাহে লক্ষ লক্ষ ধর্মপ্রাণ মানুষের জমায়েত হবে। আগত মেহমানদের যাতে কোন ও অসুবিধা না হয় তার জন্য জেলা প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।হাওড়া জেলার অঙ্কুরহাটি নিবড়া মার্কাস মসজিদ থেকে এসেছেন শেখ মোহাম্মদ রফিক, উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশ খালি থেকে মুহিবুল্লাহ মোল্লা, হুগলি থেকে এস মোহাম্মদ নাসের, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর থেকে শেখ আখতার আলী সহ আরো অনেকে। শিলচর আসাম থেকে আলমাস আলী সহ আরো দূর ও বিভিন্ন জেলার ধর্মপ্রাণ মুসলিম ভাইয়েরা বিশ্ব ইজতেমায় ইতিমধ্যেই যোগ দিয়ে মেহমানদের খেদমত করছেন। উনারা জানালেন, এর পূর্বে ভূপাল, হাওড়া জেলার বাঁকড়া, বাংলাদেশের ঢাকা-টাঙ্গিতে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু কোথাও এখানকার হুগলি জেলার দাদপুর-পুইনানের মত এত বড় করে বিশ্ব ইজতেমার আয়োজন হয়নি।। ধনিয়াখালি হট স্টেশন থেকে মহেশপুর হাই রোডের পাশ দিয়ে পুইনান, সুগন্ধা, দিল্লী রোড পর্যন্ত ব্যাপক নিরাপত্তা ও যানজট নিয়ন্ত্রণের পুলিশ প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবক গন রাস্তায় দিনরাত কাজ করছেন। পাশাপাশি বহু হোটেল ও বিভিন্ন পোশাক  পসরার, শীতের সরঞ্জামসহ বহু দোকানপাট বসেছে। এই বিশ্ব ইজতেমার স্থানেও বহু জেলার ও পশ্চিমবঙ্গের বাইরে থেকেও ক্যান্টিনের সুব্যবস্থা করা হয়েছে।

Post a Comment

0 Comments